মেনু >>
মেনু >>

Oops! Looks like this custom HTML web element hit a plan limit and is taking a little break.

Please ask the website owner to upgrade and bring it back to action!

Oops! Looks like this custom HTML web element hit a plan limit and is taking a little break.

Please ask the website owner to upgrade and bring it back to action!

Oops! Looks like this custom HTML web element hit a plan limit and is taking a little break.

Please ask the website owner to upgrade and bring it back to action!

Oops! Looks like this custom HTML web element hit a plan limit and is taking a little break.

Please ask the website owner to upgrade and bring it back to action!

আনন্দকানন 

RNI no -WBBIL/2019/79312

banush
ram lakhan
sadhinata
shironam
tusir dan
sostir chana

ষষ্ঠীর ছানা

 

দোয়েল পাল

 

 

নিত্যানন্দপুর খুবই ছোটো একখানা অখ্যাত গ্ৰাম। গ্ৰামে চোর ছ্যাঁচড়ের উপদ্রব নেই। শান্তিপূর্ণ এই গ্ৰামে একডাকে সবাই যাকে চেনে তিনি হলেন বটুকনাথ চাটুজ্যে। ছোটোখাটো চেহারার বটুকনাথের তেজারতি কারবারের পাশাপাশি পৈতৃক সম্পত্তিও কম কিছু নেই। নিন্দুকেরা আড়ালে তাকে কিপটে বটুক বললেও তিনি নিজেকে মিতব্যয়ী বলেই মনে করেন। নিন্দুকদের অবশ্য একতরফা দোষ দেওয়া চলে না, বটুকগিন্নি ক্ষীরোদাসুন্দরীও তাকে কিপটে বুড়ো বলেই ডাকেন। 

 

প্রতিদিনের মতো আজও সকালে পিতামহের আমলের নড়বড়ে আরামকেদারায় নিজের বৈঠকখানায় বিশ্রাম করছিলেন বটুকবাবু। এমন সময় চাকর দীনু ভগ্নদূতের ন্যায় সংবাদ আনে, "বাবু, গিন্নিমা কইলেন আইজ সত্যনারায়ণ দিবেন আর আমারে কইলেন পুজোর সামগ্যি আনতে। পাঁচটি হাজার ট্যাকা দ্যান বাবু।" বামহাতে বুক চেপে ধরে কোনোক্রমে বললেন বটুকবাবু, "ক্-ক্ কত টাকা বললি দীনু?"

এবার রঙ্গমঞ্চে আসেন স্বয়ং ক্ষীরোদাসুন্দরী, ঝাঁঝালো গলায় উত্তর দেন, "কিপটে বুড়োর আদিখ্যেতা দেখলে বাঁচি না। গতমাসে যে মানত করলে ঘোড়ার মাঠের জমিটার ভালো দাম সত্যনারায়ণ দেবে সেই কথা কি ভুলে গেলে বাহাত্তুরে বুড়ো?" হাঁপাতে হাঁপাতে বটুকবাবু বলে, "কিন্তু সে যে অনেকগুলো টাকা গিন্নি। আমার বুকটা ধড়ফড় করছে, আমাকে একটু ঘরে নিয়ে চলো।"বাবুর অবস্থা দেখে হাঁইমাঁই করে ওঠে দীনু, সে বটুকবাবুকে ধরে শোওয়ার ঘরে নিয়ে যায়। ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে আগুন চোখে সেইদিকে তাকিয়ে থাকেন ক্ষীরোদাসুন্দরী। 

 

সেইদিন দুপুরবেলা তেল ছাড়া একফোঁটা আলুভাতে আর উঠোনের লাউ শাকের চচ্চড়ি দিয়ে ভাত খেয়ে বটুকবাবু খাটে শুয়ে পা নাচাতে নাচাতে নিজের বুদ্ধির তারিফ করতে থাকেন। "ওহ্ বেড়ে উপায়টা করেছিলাম, আর একটু হলেই এতগুলো টাকা গচ্চা যেতো। গিন্নির তো কোনোকালেই মাথাতে একছটাক বুদ্ধি হবে না," নিজের মনে বিড়বিড় করতে করতে দিবানিদ্রায় ঢলে পড়েন বটুকবাবু। তিনি জানতেও পারেন না ওদিকে রান্নাঘরে গভীর ষড়যন্ত্রের ছক কষছেন ক্ষীরোদাসুন্দরী। 

 

রাতের বেলা বটুকবাবুর বুকে তেল মালিশ করতে করতে ক্ষীরোদাসুন্দরী বলে ওঠেন, "তুমি ঠিকই বলেছিলে গো, সত্যিই তো কতগুলো টাকা খরচ হয়ে যেতো মিছিমিছি। ভক্তিছেদ্দা তো মনেই থাকে, অত ঘটাপটা করে পুজো করে কি হবে?" গিন্নির কথাতে বেজায় খুশি হন বটুকবাবু, "যাক্ বাবা, গিন্নির মাথা থেকে ভূত নেমেছে। হে শালগেরাম, কাল দুটো নকুলদানা বেশী দেবো তোমায়।" গিন্নির ঠেলাতে সম্বিত ফেরে বটুকবাবুর। আদুরে গলায় ক্ষীরোদাসুন্দরী বলে চলেছেন, "তোমায় তবে আমার একখানা কথা রাখতে হবে গো। আসছে মাসে ষষ্ঠীর বার করে ষষ্ঠীর ছানাদের একটু খাওয়াবো দুপুরে; তুমি কিন্তু মানা করতে পারবে না।" গিন্নির বিড়াল প্রীতির কথা অজানা নয় তাঁর। দরাজ গলায় বলেন, "আহা এতে আবার জিজ্ঞাসা করার কি আছে গিন্নি? আমি কি এতটাই পাষাণ নাকি? তুমি খাইয়ো তোমার ষষ্ঠীর ছানাদের।" না, মোটের ওপর দিনটা আজ বড় ভালোই ছিল; ইষ্টদেবতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েন বটুকবাবু। 

 

গন্ডগোলটা শুরু হলো পরের মাসে ষষ্ঠী পুজোর দিন। ঘুম থেকে উঠে বটুকবাবু যা দেখেন তাতে তাঁর চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায়। এ তিনি কি দেখছেন, তার উঠোনে এ যেন মহাভোজের আয়োজন করা হয়েছে।তিনটে বড়ো উনুনের ওপর বসানো তিনটে প্রকান্ড কড়াই, রসুয়ে বামুনরা ছোটাছুটি করছে আর সমস্ত ব্যাপারটা তদারকি করছে দীনু। "গিন্নি" ডাক শুনে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে আসেন ক্ষীরোদাসুন্দরী। হতবাক বটুকবাবুকে দেখে একগাল হেসে বলেন, "তোমায় বলেছিলুম না, আজ ষষ্ঠীর বারে ষষ্ঠীর ছানাদের খাওয়াবো। তাই আজ গেরামের সব কুচোকাচা গুলোকে নেমন্তন্ন করেছি, আসলে ওরাই তো ষষ্ঠীর ছানাপোনা।"

রাম-লক্ষণ বুকে আছে

 

তাপসকিরণ রায়

 

 

রানার বয়স নয়-দশ হবে। সেবার মামার বাড়ি গিয়ে সে প্রথম তাল গাছ দেখল। ও বলে উঠল, ওরে বাবা, এত লম্বা তালগাছ !
রানার মামাবাড়ি শেওড়াফুলি, সেখানকার এক মাত্র বন্ধু তার, নাদু।
নাদু রানাকে শেওড়াফুলির ভূতের গল্প শোনায়, ও বলে, নানা, জানিস, শ্যাওড়া গাছে পেত্নী থাকে? নাদু আসলে র উচ্চারণ করতে পারে না।
--পেত্নী মানে ভূত? রানা প্রশ্ন করে।
নাদু বিজ্ঞের মত মুখ করে বলে, জানিস না তুই, ওই ভুতের বউ হল পেত্নী--
নাদু একদিন বলেছিল ভূত নাকি চাইলে তাল গাছের মতো বড় হতে পারে।
কথা শুনে ভয়ে চমকে রানার চোখ দুটো যেন কপালে উঠে এসেছিল।
নাদুদের বাড়ি সে দিন মনসা পূজা ছিল। প্রতিবছর নাকি ওরা মনসা পূজা করে। ওদের বংশের ওপর নাকি মা মনসার কোন অভিশাপ আছে। মা মনসার বাহন, সর্প দংশনে ওর  দাদু দিদা দু জনেই মারা গিয়েছিল।
পূজা দেখে ফিরছিল রানা তখন রাত নটা হবে। মফস্বল এরিয়াতে তখনই রাস্তাঘাট নির্জন হয়ে ছিল।
নাদু পুজোর কাজকর্মে বেশ বেশি ব্যস্ত ছিল। ওকে বারবার ডেকেও যখন পেলো না, রানা তখন একলাই ঘরের দিকে হাঁটা দিল। কত দূর হবে তার ঘর? এই বেশি হলে পাঁচ মিনিটের পথ। কিন্তু মাঝপথে তালগাছের কথাটা সে বেমালুম ভুলে গিয়েছিল। আকাশের চাঁদ তখন মেঘে ঢাকা পড়ে আবছা ছাইরঙা আলো ছড়াচ্ছে। সামনের তালগাছটা দেখামাত্র রানর শরীরটা ছম ছম করে উঠলো। ভূত নাকি তাল গাছের মতো বড় হতে পারে এ কথা মনে পরতেই রানার সারা শরীর জুড়ে শিহরণ জেগে গেল। সে দেখল, তালগাছ দুলছে। না, তালগাছকে তো সে একবারও এর আগে দুলতে দেখেনি--তবে?
ওরে বাবা তাল গাছের কাছে এসে সে দেখল, একটা তালগাছ যেন তার চলার রাস্তার উপরে শুয়ে আছে ! আর না, রানা প্রাণপণ ছুটে চলেছে, আর বলে চলেছে,
ভূত আমার পুত পেত্নী আমার ঝি
রাম লক্ষণ বুকে আছে করবি আমায় কি?
ছুটতে ছুটতে বুকটা রানার ধুকধুক করছিল। সে শব্দের মধ্যে সে যেন শুনতে পেল কেউ বলছে, ধর ধর ধর ধর--
রানা আপন মনে বলল, আমার বুকে রাম লক্ষণ আছে--
রানা তার বুকের ধুকধুকানি মাঝে শুনতে পেল, আমি তাল গাছের ভূত, তোর বুকে বসে আছি--
রানা অনুভব করলো, ওহঃ কি ভারী না তার বুকটা! সে ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল। তারপর সব চুপচাপ হয়ে গেল। রানার তখন জ্ঞানহারাবার অবস্থা। জ্ঞান হারাতে হারাতে সে স্পষ্ট শুনতে পেল,  আমরা রাম লক্ষণ তুই ভয় পাস না রানা, তোর বুকের মধ্যেই আমরা বসে আছি।
একটু পরেই সংজ্ঞা ফিরল রানার। তার শরীর তখন ঝরঝরে হয়ে গেছে। সমস্ত ভয় ঝেড়ে ফেলে সে টানটান হয়ে উঠে দাঁড়ালো। সে তাল গাছের দিকে তাকাল, তার চোখে পরলো, তালগাছের লম্বমান ছায়া তখনো মাটিতে শুয়ে আছে। সে মনে মনে ভাবল, আসলে মনের মধ্যেই ভয় বাস করে। আর এই মনের মধ্যেই আছে সাহস জোগাবার জন্য, রাম ও লক্ষণ।

টুসীর দান

 

চন্দন চক্রবর্তী

 

 

নেকদিন তোমাদের টুসীর কথা বলা হয় নি । তোমাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছা করে,লক ডাউনে,স্কুল বন্ধের দিনগুলো, টুসীর কি ভাবে কাটাচ্ছে ! 

 

তবে শোন । টুসীর স্কুলে যাওয়া নেই ঠিকই,বন্ধুদের সাথেও অনেকদিন দেখা নেই । তাই বলে ভেব না টুসী খারাপ আছে । বরং সে ভালোই আছে । ঘরে এখন তার কত কাজ !  

 

এমনিতেই ছোট বোনকে দুধ খাওয়ানো,কাঁথা পাল্টানো,সে সব তো আছেই ।  বোনকে সে যে খুব ভালোবাসে । 

 

তারপর ধর পড়াশুনাটাতো করতে হবেই,তাই না ! সেটা হয়ে গেলে টুসী খেলনা বাটিগুলো নিয়ে বসবে । স্কুল থাকলে ওগুলোতো আর বের করা হয় না । এখন সময়টা পাওয়া গেছে । আজকে টুসী রাধবে । সকালে উঠেই টুসী বাড়ির সবাইকে নেমন্তন্ন করে রেখেছে । টুসীর সঙ্গে বাবাও এখন বাড়িতে ।  বাবাকেও টুসী নেমন্তন্ন করেছে  । 

 

রান্নার মেনু শুনবে । ইটের গুঁড়োর ডাল । কাগজ ছিড়ে মাছের ঝোল । গাছের পাতা দিয়ে তরকারী । আরো কত কি ! টুসী কিন্তু রাধে ভালো,সেটা যে খেয়েছে সেই বলে । ঠাম্মাতো ওর রান্নার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ।  

 

কিন্তু একটা ব্যাপারে টুসীর খুব মন খারাপ । টুসী বাবার কাছে শুনেছে,এখন লক ডাউনের ফলে খেটে খাওয়া কাকুগুলো না খেয়ে আছে । তাদের ঘরে টুসীর মত যারা ছোট তাদের আরো কষ্ট । তাদের বাবা মায়ের হাতে তো পয়সা নেই ! 

 

টুসীর মনে আছে,মা যখন হাসপাতালে বোন আনতে গেল,তখন একদিন সরলা কাজের মাসিটা সকালে আসে নি  । দুপুরে কে খেতে দেবে ? সরলা মাসি বলেছিল দুপুরে আসবে । কিন্তু আসতে আসতে অনেক বেলা করল । বাড়িতে টুসী আর ঠাম্মি ছাড়া কেউ নেই । ঠাম্মিতো নড়া চড়া করতেই পারে না !  সেদিন টুসীর খেতে অনেকটা দেরি হয়েছিল । সেদিন টুসী বুঝেছিল খিদে পেলে মানুষের খুব কষ্ট হয় । 

 

টুসীর রান্না হয়ে গেছে,এমন সময় পাড়ার কাকুরা এল চাঁদা নিতে । ওরা পাড়ার গরিবদের খাওয়াবে । বাবার সঙ্গে ওরা কথা বলছিল । 

 

বাবা ওদের মাত্র পাঁচশ টাকা দিয়েছে । আসলে বোনু হওয়ায় বাবার অনেক টাকা খরচ হয়েছে । তারপরেই ঠাম্মির শরীর খারাপ হওয়ায় নার্সিং হোমে ভর্তি হল । 

 

সব শুনে টুসী বুঝেছে কাকুদের আরো দিলে ভালো হয় । তাছাড়া কাকুরা যাদের খাওয়াবে,টুসী ওদের দেখেছে । স্কুলে যাওয়া আসার পথে ওদের দেখেছে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে  । কারো গায়ে জামা নেই ,কারো পায়ে জুতো নেই । চুলগুলো কেমন উস্কো খুস্কো । মা বলেছে ওরা গরিব তাই ওমন ।

 

গেলবার ভাই ফোঁটায় টুসী পাঁচশ টাকা পেয়েছে । ভেবেছিল একটা ছেলে কিনে আনবে । মেয়ে আগেই একটা আছে । না সেটা পরে ভাবলেও চলবে । আগেতো সবাই খেয়ে বাঁচুক । টুসী দৌড়ে ঘরে গিয়ে স্কুলের ব্যাগ থেকে টাকাটা এনে বাবার হাতে দিল । কাকুরা না করছিল । কিন্তু টুসী মানবে কেন !

 

টুসীর খুব ভালো লাগছে সেও এই কাজে সামিল হতে পেরেছে ।

ভূতময় ভবিষ্যৎ

 

সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

 

মিতা কলকাতায় একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়তে এল, তখন র‍্যাগিং আটকাতে কলেজে বেশ কড়াকড়ি চলছে। তাই সব ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েদের রাখা হল কলেজ ক‍্যাম্পাসেরই নতুন তৈরী হওয়া একটা বিল্ডিং-এ। প্রত‍্যেক ঘরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মেয়েরা যে যেমন সিট পেল থাকতে শুরু করল। র‍্যাগিং যদিও একটা খারাপ বিষয়, তবুও তার দৌলতে ঝাঁ চকচকে নতুন ঘর পেয়ে সমিতা আর ওর দুই রুমমেট তৃণা,চৈতালীর খুব আনন্দ হল। অচিরেই পাশাপাশি রুমের সবার সঙ্গে সবার আলাপ হয়ে গেল। ডিপার্টমেন্ট আলাদা হলেও একই জায়গায় ওঠাবসা,শোয়া এসবে প্রত‍্যেকের সঙ্গে প্রত‍্যেকের ভাব হল।আবার ঝগড়া হয়ে মুখ দেখাদেখি বন্ধ এরকম ঘটনাও ঘটল। একদিন সমিতারা কলেজ থেকে ফিরে দেখল ঘরের সব জিনিস এলোমেলো হয়ে আছে। যে ওদের ঘর ঝাঁটের দায়িত্বে থাকে সেই ফুলমণিকে সমিতারা বার বার জিজ্ঞেস করল,কিন্তু ওর মুখে একই কথা-"মু ন জানুচি ইয়ে কেবে হউচি।"সমিতারা আপাতত হস্টেল সুপারের কাছে অভিযোগ জানাবে ঠিক করল। সুপারের ঘরের দিকে যেতে যেতে তৃণা বলল-"হ‍্যা‍ঁ রে কোন ভূতের কাণ্ড নয় তো,কমপ্লেন করলে আবার রেগে যাবে না তো?"
"দিনের বেলায় ভূত?"-তৃণার আষাঢ়ে কল্পনায় চৈতালী রেগে গেল। ওদের সঙ্গে আসছিল পাশের রুমের রুক্সানা,ও চৈতালীর দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলল-"একেবারে হেসে উড়িয়ে দিস না,আমাদের কলেজে কিন্তু ভূত আছে। আর ভুলে যাস না কলেজের পাশেই গোরস্থান।কোন দুষ্টু আত্মা করতেই পারে এমন কাজ।" শমিতা কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল-"আমি এই গল্প আমাদের পুরনো বিল্ডিংগুলোর ক্ষেত্রে শুনেছি কিন্তু এ তো নতুন বিল্ডিং।"তৃণা মানতে না পেরে-"থাম তো,ভূতের আবার নতুন,পুরনো। তুই জানিস না ভূত সর্বত্রগামী,যেখানে খুশী যেতে পারে,থাকতে পারে।" এসব আলোচনার মধ্যেই ওরা সুপারের ঘরে গিয়ে অভিযোগ লিখল।উনিও আশ্বাস দিলেন তদন্ত করবেন বলে। চেষ্টার ফলেই হোক আর যাই হোক, কারণ একটা খুঁজে পাওয়া গেল।তবে তা হল পর্বতের মূষিক প্রসবের মতো অবস্থা। কলেজেরই এক অফিস স্টাফের ছেলের মাথাখারাপ,ও মেয়েদের হস্টেলে খাবার খুঁজতে ঢুকে সব লণ্ডভণ্ড করে রেখেছিল।রুক্সানার রুমেও এমনই ঘটনা ঘটেছে। যা হোক ব‍্যবস্থা আরো পাকাপক্ত করা হল,উপদ্রব আটকাতে।তৃণা তাও বিড়বিড় করে গেল-"একদিন তোরা নিজেরাই আবিষ্কার করবি এখানে ভূত আছে কী নেই।" বেশ কিছুদিন ঠিকঠাক চলল,সমিতারা নিশ্চিন্তবোধ করতে শুরু করেছে। এমন কী বই নিয়ে রাত জাগতে জাগতে ল‍্যাপটপে হরর ওয়েব সিরিজ দেখতেও পিছপা হচ্ছে না। এরকমই একটা দিনে রুকসানাদের জানলায় আবিষ্কৃত হল একটা পায়জামা। কম করেও অর্ধশতাব্দীর আগের জিনিস বলে মনে হল,এবার সমিতারা তৃণার কথা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। হস্টেলের যে কোন জায়গায় ওরা আর একা একা যেতে ভরসা পাচ্ছে না। সন্ধ‍্যেবেলায় হস্টেলের বাইরেও কেউ পা রাখছে না,এক বন্দী জীবন। এইসময় চৈতালীর ডিপার্টমেন্টের এক সিনিয়ার দিদি একটা কাজে নিউ হস্টেলে এসে সব শুনে বলল-"তাহলে তো তোরা ওল্ড
হস্টেলে থাকতেই পারবি না। একটা গণ মারামারির ফল স্বরূপ হস্টেলের বেশ কয়েকজন মারা পড়ে। তারপর থেকে ওদের ঘর বন্ধ আছে,কিন্তু রাত হলেই মনে হবে ঐ ঘর কেউ ব‍্যবহার করছে।অমাবস্যায় ভয়ংকর ভয়ংকর শব্দ শোনা যায়।" সমিতা,তৃণা,চৈতালী মনে মনে প্রমাদ গোনে,কী কুক্ষণে যে কাউন্সেলিংয়ে ওরা এই কলেজ বেছে নিয়েছিল। তৃণা একটা পরামর্শ দেয়-"চল এ বছর আমরা পরীক্ষা দেব না,তাহলে একই ইয়ারে থাকব,
আমাদের এই হস্টেলও আর ছাড়তে হবে না।"
রুকসানা কথাটা শুনতে পেয়ে এগিয়ে এসে কথায় যোগ দিল-"সে গুড়ে বালি,এখানে একবছর পেরিয়ে গেলেই আর থাকতে দেবে না,যেতেই হবে ঐ পুরনো হস্টেলে।" সমিতা হাল ছেড়ে বলল-"যাক গে যাক,এখানেও দৌরাত্ম্য তো কিছু কম নেই,ভূতেদের আঁতুরঘরেই না হয় থাকব গিয়ে।"অগত‍্যা পরীক্ষায় ভালভাবে উত্তীর্ন হয়ে লোটাকম্বল গুটিয়ে সব চলল কলেজের পুরনো ছাত্রী আবাস প্রীতিলতাতে। এখন
ওরা সিনিয়ার, তাই নতুন যারা আসবে তাদের সঙ্গে যাতে কোন ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া না ঘটে তাই এই ব‍্যবস্থা।
কলেজের নিয়ম অনুযায়ী সমিতারা সব সিঙ্গল রুমের বাসিন্দা হল। একা শোয়ার অনভ‍্যাস ও আশঙ্কায় ওরা সেই বেঁধে বেঁধেই থাকল,দরকারে মাটিতে শুলো। রুকসানা যে তলায় থাকল সেই তলাতেই ঐ বহুচর্চিত ঘরটা আছে। সমিতার ডিপার্টমেন্টের সার্ভের কাজ থাকায় সেদিন ওর হস্টেলে ফিরতে ফিরতে বিকেল উতরে গেল। রাস্তার দুপাশে ঘন গাছগাছালি, মাঝখান দিয়ে সমিতা দ্রুত হাঁটছে,হঠাৎ ঐ শূন‍্য ফু়ঁড়ে প্রায় ওরই বয়সী একটা মেয়ে বলে উঠল-"তোমার সিভিল না?আমার ইলেকট্রনিক্স।" ভদ্রতার খাতিরে সমিতা কথা বলতে বলতে এগিয়ে চলল। ওর নাম ঝুমুর, একনাগাড়ে অনেক কিছু বলতে গিয়ে বলল-"তোমরা তো র‍্যাগিং কী বুঝলে না,আমাদের সময় র‍্যাগিং মানে প্রাণ সংশয় ছিল,সেবার..."
ওরই বয়সী একটা মেয়ে কী করে এতো আগের হবে,
এ কথা ভেবে কিছু বলতে গিয়ে সমিতা দেখল মেয়েটা দাঁত বের করে হাসছে।হাসতে হাসতে ও হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। সমিতা এক ছুটে হস্টেলের দরজায়‌ এসে গার্ডের সামনে  অজ্ঞান  হয়ে গেল। জ্ঞান আসতে ঝুঁকে পড়া বাকীদের দিকে তাকিয়ে ও কথাটা চেপে গেল। কারণ বাকীরা তাহলে আরো ভয়ে ভয়ে থাকবে। রুকসানা একদিন দেখল, বারান্দায় ওর আগে আগে একটা মেয়ে হাঁটতে হাঁটতে চিরদিনের ঐ বন্ধ ঘরের বন্ধ দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। এটা কী করে সম্ভব, ও "ইয়ে আল্লা"-বলে হাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে তৃণাদের ঘরে ঢুকে সব জানালো। সব থেকে বড় চমক অপেক্ষা করেছিল চৈতালীর জন্য, ও কলেজের ইলেক্ট্রিক্যালের ছাত্রী। ইলেক্ট্রিক রেজিস্টেন্সের ওপর একটা জটিল সমাধান ভাবতে ভাবতে কলেজ থেকে ফিরছে। স‍্যার বোঝালেও সমাধানটা ঠিক ওর মাথায় ঢোকে নি। এমন সময় এক বৃদ্ধ মানুষের সঙ্গে ওর মুখোমুখি দেখা হল। উনি চৈতালীর ভাব লক্ষ‍্য করে বললেন-"তুমি কি কোন সমস‍্যায় পড়েছ?"
চৈতালী প্রথমে না' বললেও উনি কথায় কথায় ওর পেটের কথা বার করে বললেন-"আমি একজন রিটায়ার্ড প্রফেসর,বছর দশ হল রিটায়ার করেছি। তোমার কিছু আটকালে আসতে পার। ক‍্যাম্পাসের দেওয়ালের গায়ে সবচেয়ে ধারের বাড়িটা আমার।"
চৈতালী বিদায় জানিয়ে খুশী মনে হস্টেলে ফিরল।
দুদিন পর বই-খাতা নিয়ে ঐ বাড়িটার কাছাকাছি আসতেই সিকিউরিটি কাকু জিজ্ঞেস করল কার বাড়িতে ও যাবে। ওর বর্ণনা শুনে গার্ড মহিন বলল-
"উনি তো পাঁচবছর আগেই মারা গেছেন।"
হস্টেলে চৈতালীর অভিজ্ঞতা শুনে রুকসানা বলল-
"এ তো দেখা যাচ্ছে ভূতের সঙ্গে থাকা অভ‍্যাস করে ফেলতে হবে।"
তৃণা সাহস সঞ্চয় করে বলল-"নইলে ভূত বাছতে গাঁ
উজাড় হবে। আমি ভূত তুমি ভূত কিম্ভূত কিমাকার।"
কলেজ জীবনের ওদের এইসব ভূতের অভিজ্ঞতা খারাপ হলেও ওদের ভবিষ্যৎটা শেষ অব্দি ভূতের ভবিষ্যৎ হয় নি।

স্বাধীনতা বোধ

 

সুভাষ ভূঁইয়া

 

 

ছোট্ট বন্ধুরা,তোমরা  তো সবাই ঘুঘু  পাখি দেখেছো? দেখতে কবুতরের মতই,তবে একটু  ছোট এবং এক রংয়া উজ্জ্বল মেটে রংয়ের।
মাঝে  মাঝে  কালো ফোটা ফোটা দাগ।গলায়  হাসলি ও পা দুটো গোলাপি, দেখতে খুব সুন্দর এবং খুব শান্ত প্রকৃতির পাখি এরা।
এবার আমি দুটি  ঘুঘু পাখির গল্প শোনাব।বাংলাদেশের একটি গ্রাম নাম মধুমতি। একটা  ছোট  নদী বয়ে যাচ্ছে, দুই তীরে তার অসংখ্য  গাছ পালা।আম জাম কাঠাল শিমূল বট, মাঝেমাঝে বাঁশের ঝার,তার ফাঁকে ফাঁকে নানান রং বেরংয়ের পাখিরা বাসা বেঁধে মনের সুখে দিন কাটাচ্ছে।সেখানে বকুল গাছেএক জোঁড়া ঘুঘু  অনেকদিন ধরে বাসা বেঁধে  থাকে। বন্ধুরা তোমরা দেখেছ,অনেক পাখিরা দল বেঁধে থাকে। যেমন চড়ুই পাখি কবুতর টিয়া পাখি।ওরা যতদিন নিজের চেষ্টায় আহার সংগ্রহ করতে না পারে,ততদিন  ওদের মা বাবার সাহায্যেই বেড়ে উঠে  ।পাখি দুটি এতদিনে কয়েক জোঁড়া বাচ্চার মা বাবা হয়েছে,বেশ সুখেই কাটছিল ওদের দিন।কিন্তু একদিন পায়রী  ঘুঘুটা নিখোঁজ, সকাল গেল দুপুর গেল সন্ধা ঘনিয়ে এলো তবু তাকে খুঁজে  পেলোনা।সারাদিনে দুটো দানা পানি মূখে দেয়নি পাখিটি।মহা চিন্তায় ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে  রাত কাটল ।সকাল হোতেই উড়ে গেল নদীর ওপারে,যাকে দেখে তাকেই  জিজ্ঞেস করে তার সাথীটিরে কেউ দেখেছে কিনা!একটার পর একটা গ্রাম, খাল বিল নদী পারিদিয়ে সে পৌছল গিয়ে  পশ্চিমবঙ্গের  বশিরহাটে।ডানা দুটো আর নাড়াতে পারছেনা,বেলা প্রায় শেষ হয়ে আসছে।চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে, চারিদিক অন্ধকার মনে হচ্ছিল।ঠিক  সেই মূহু্র্তে একটা ঘুঘু উড়েএলো তার কাছে।সেও তার সাথীটিরে হারিয়েছে শিকারীর ফাঁদে পরে।  পাখিটি তার সেবা যত্নে ঘুঘুটিকে সুস্থ করে তার বাসায়  নিয়ে  গেল। এভাবেই মৈত্রির বন্ধনে বাঁধা পরল প্রতিবেশী দুটি পাখি।মানুষের তৈরী কাটা তাঁরের বেড়া,নির্ধারিত সীমানার গন্ডিতে আটকাতে  পারলোনা পাখির ভালোবাসাকে।সবকিছু  ভুলে নুতন করে আবার বাসা বাঁধলো দুটি পাখি,আবার ডিম দিল, ছানা ফুটলো,কিন্তু৷    ছানা দুটোকে এক দিনএক চাষীর ছেলে নিয়ে গেল।যদিও খুব আদর যত্নে  খাঁচায়  পূষে বড়করে তুলল ছানা দুটোকে।একদিন চাষীর ছেলেটি স্কুলে গিয়ে তার শিক্ষকের কাছে স্বাধীনতার গল্প শুনে তার হৃদয় ভারাক্রান্ত হলো।মনে স্বাধীনতার বোধদয় হলো।সে বুঝতে পারল বাচ্চা দু'টোকে ওদের মায়ের  কোল থেকে নিয়ে আসা উচিত হয়নি।এতে পাখির স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ  করা হয়েছে, তাই সে  বাড়ি ফিরে খাঁচার দুয়ার খূলে, বাচ্চা দুটোকে নিজের  হাতে উড়িয়ে দিল মূক্ত আকাশে।

 

বানুষ

 

ডঃ রমলা মুখার্জী

 

 

 

তিস্তা আর মেঘনা দু বোন। যত ভাব তাদের, তত ঝগড়া। তাদের বাবা-মা তো চাকরি করেন- তাই ঠাম্মিকেই সামলাতে হয়। 

    একদিন হল কি- খুশিতে ডগমগ করে দুজনে বাড়ি ফিরল কাকভেজা হয়ে। রেনি ডের জন্য ছুটি হয়ে গেছে। দুবোনের তো আনন্দ ধরে না, পড়া, আঁকা, নাচ, গান থেকে কিছুক্ষণের বিরতি। দুবোনে ঠাম্মিকে ঘিরে ধরল আর  বলতে লাগল, “ঠাম্মি, গল্প বল, ঠাম্মি গল্প বল।” তাদের ঠাম্মি প্রতিভাদেবীর বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলার অসাধারণ প্রতিভা।  নাতনিদ্বয়ের হাত থেকে মুক্তি পাবার জন্যে প্রতিভাদেবী গল্প শুরু করলেন, “একবার এক গভীর বনে বানরদের এক বিরাটসভা বসেছে।” 

তিস্তা অমনি ফোড়ন কাটে, “বানরদের সভা হয় ঠাম্মি?” মেঘনা খেঁকিয়ে ওঠে, “দেখলি না সেদিন, একটা হনুমান যখন মরে গেল তখন বন্ধুর মৃত্যুশোকে কত হনুমান জড় হয়ে মৌনসভা করছিল?”

“মাঝপথে কথা বললে কিন্তু গল্প বলব না,” বিরক্ত হয়ে প্রতিভা দেবী বলেন, তিনি এরকম মাঝপথে প্রশ্ন করা মোটেই পছন্দ করেন না, আসলে একালের নাতনিদের যুক্তিতর্ক দিয়ে বিচার করে গল্প বলা খুব মুস্কিল। নাতনিরা কোন প্রশ্ন করবে না বলার পর ঠাম্মি পুনরায় গল্প আরম্ভ করলেন, “সে বানরদের রাজার প্রজাদের নিয়ে মহাসভা বলে কথা। কত দেশ থেকে কত বানর এসেছে- লাল মুখো, কালো মুখো, সরু মুখো, মোটা, বেঁটে, লম্বা, রোগা, ছোটলেজ, বড়লেজ- গুণে শেষই করা যায়না। গভীর সব আলোচনা। 

    বানররাজা মাংকিং বললেন, “দেখ বানরকুল, আমাদের থেকেই তো মানুষ এসেছে আর আমরা যে বানর সে বানরই রয়ে গেলাম; আর মানুষজাতি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব হয়ে এখন পৃথিবীতে বিরাট আধিপত্য বিস্তার করছে। এটা কিন্তু ভগবানের খুবই অবিচার।”

সভাসদ বলে, ‘ঠিক ঠিক, এর প্রতিকার চাই।’ মাংকিং বলেন, “আমরা সবাই ভগবানের কাছে জানাব যে মানুষকে তিনি যেন আবার বানর করে দেন।” সভাসদ বলে,“ঠিক, ঠিক- আমরা কালই যাব ভগবানের কাছে।” 

    পরের দিন বিশাল বানর-বাহিনী চলল স্বর্গে, ভগবানের কাছে তাদের নালিশ জানাতে। সব শুনে ভগবান বললেন, “তা কি করে সম্ভব? একবার উন্নত করে গড়ে তাকে কি আর অনুন্নত করা যায়?”

     কিন্তু বানররা নাছোড়বান্দা। তারা অনশনে বসে গেল স্বর্গপুরীতে। ভগবান ভাবলেন, “ এভাবে অনশন করলে বানরকুলের অস্তিত্ব তো লুপ্ত হয়ে যাবে।” তিনি বানরকুলকে ডেকে বললেন, “আমি মানুষের সুন্দর শরীরটা পাল্টাতে পারবনা, কিন্তু মনটা আমি বানরে পরিণত করার চেষ্টা করছি।” বানরকুল তো মর্ত্যে ফিরে এলো মহানন্দে। যখনকার কথা বলছি সেটা ছিল সত্যযুগ, তখন সব মানুষই ছিল সৎ আর ধার্মিক। কিন্তু ভগবান তারপর থেকে ঐ যে বাইরে মানুষ আর ভেতরে বাঁদর গড়তে লাগলেন, তৈরি হল ‘বানুষ’।এলো কলি যুগ-  ‘বানুষ’ সব্বাইকে মারবার জন্যে কত কিছু বানাতে লাগল- কত রকমের যন্ত্রপাতি, বন্দুক, আনবিক বোমা, সে তৈরী করেই চলতে লাগল। কত মানুষ, জীবজন্তু মারা পড়তে লাগল তার ইয়ত্তা নেই। একা ভগবানের পক্ষে সব মানুষকে ‘বানুষ’ বানানো সম্ভব হল না- তাই কিছু ভাল মানুষও পৃথিবীতে থেকে গেল। আর বানুষরা বন-জঙ্গল কেটে বড় বড় বাড়ি বানাচ্ছে- বানরদেরই থাকার জায়গার আজ বড় অভাব- প্রাণীকুল নিরাশ্রয় হয়ে পড়ছে। ফলমূল খেয়েই বানরকুল বেঁচে থাকে- তাও উধাও হয়ে যাচ্ছে। 

    আবার বানর বাহিনী গেল ভগবানের কাছে আর তাদের বক্তব্য পেশ করল। সব শুনে ভগবান বললেন, “আর তো উপায় নেই, ‘বানুষ’রা এখন আমারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমার অস্তিত্বই ওরা স্বীকার করে না। আমিই আজ অস্তিত্বের সংকটে বিপন্ন।’’ 

     গল্পের শেষে ঠাম্মি বললেন, “দেখলে তো তিস্তা, মেঘনা পরের শ্রীবৃদ্ধি দেখে হিংসে করলে নিজেদেরই ক্ষতি হয়।” 

গল্পগুচ্ছ

Free Website Created & Hosted with Website.com Website Builder

Create Yours

Create Free Website Now

Stunning Website Templates. Free Domain.
website.com: BEST DEAL ON EARTH .COM for $10.33/year No Hidden Fees Register & Get Free Hosting