আনন্দকানন
RNI no -WBBIL/2019/79312
Oops! Looks like this custom HTML web element hit a plan limit and is taking a little break.
Please ask the website owner to upgrade and bring it back to action!
Oops! Looks like this custom HTML web element hit a plan limit and is taking a little break.
Please ask the website owner to upgrade and bring it back to action!
Oops! Looks like this custom HTML web element hit a plan limit and is taking a little break.
Please ask the website owner to upgrade and bring it back to action!
Oops! Looks like this custom HTML web element hit a plan limit and is taking a little break.
Please ask the website owner to upgrade and bring it back to action!
আনন্দকানন
RNI no -WBBIL/2019/79312
বিশেষ লেখা
ভূত ভুতুড়ে
সৌমী গুপ্ত
আমাদের সকলেরই ভূত শব্দটির সঙ্গে পরিচয় একেবারে ছেলেবেলা থেকেই। ভূত বলতেই অন্ধকার ,গা ছমছমে পরিবেশ, শুনশান নীরবতা এবং তার সঙ্গে অশরীরী কোনও অবয়ব বা ছায়ার কথা মনে পড়ে যায়। ভূত বিষয়ে আমাদের সবার একটা ধারনা থাকে। চেনা বা অচেনা কেউ মারা গেলেই হয়তো ভূতে পরিণত হয়। ছেলেবেলায় আরও বিশ্বাস হত কোনো অতৃপ্ত আত্মা বুঝি ভৌতিক কার্যক্ষমতা পায় সবচেয়ে বেশি।এই ধারণা থেকেই শুধুমাত্র শিশু বা কিশোর নয় ভূতে ভয় পায় প্রায় সকলেই।
অনেকে আবার বিজ্ঞানের যুগে ভূতে বিশ্বাস করতে চান না। তাঁরা যে কোনো অলৌকিকতার পিছনে যুক্তি , বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজেন। কারোর সাহস বেশি। তাঁরা সরাসরি প্রেতাত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখতে চান আদৌ পৃথিবীতে বা মহাজগতে ভূতের অস্তিত্ব আছে কিনা। প্ল্যানচেট করে এই যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় । অনেকসময় প্রেতাত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করে ভবিষ্যতবাণীও করা হয়। একে নেক্রোম্যান্সি বলা হয়। তবে ভূত নিয়ে কৌতুহল ও আগ্রহ সকলের।
ভূত কথাটির অর্থ অতীত। অতএব যা কিছু ঘটনা পূর্বে ঘটে গেছে। সেই সূত্র ধরেই বলা যেতে পারে পূর্ব জীবিত কোনো প্রানের আত্মা যখন বিভিন্ন রূপ ধারণ করে মানুষের চোখের সামনে ধরা পড়ে বা তার অস্তিত্ব জানান দেয় তখনই আমরা ভূত, প্রেত , জিন, ব্রক্ষ্মদৈত্য , শাকচুন্নি এসব নাম দিয়ে তাদের উপস্থিতি ও কার্যকলাপ অন্যদের বোঝানোর চেষ্টা করি। ভূতকে একটি সম্প্রদায় হিসেবে যদি ধরি তাদের মধ্যে অনেক গোষ্ঠী বিভাগ আছে। সেই আলোচনা অনস্বীকার্য। তার আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভূতের অবস্থান । প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ভূত কিন্তু সব জায়গায় থাকে না। বিশেষ পোড়ো বাড়ি , কবরস্থান , নিরিবিলি জঙ্গল , বাঁশবাগান, শ্মশান ,পরিত্যক্ত ফাঁকা ফ্ল্যাট , এসব শান্ত ও উপদ্রবহীন জায়গাই এদের বেশি পছন্দ। এরা একা বা নিজেদের গোষ্ঠীভুক্ত ভূতেদের সঙ্গে থাকতে চায় এবং বিশেষ বিশেষ সময় ছেড়ে আসা পূর্বজন্মের পরিচিতদের আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়।
পূর্বজন্ম বলা হল এই কারণে এরা জীবিত অবস্থায় মানুষ এবং মৃত্যুর পরে নতুন যে জন্ম বা রূপে ঘুরে বেড়ায় তা হল ভূত। আসলে আধিভৌতিক বা অতিভৌতিক একটি প্রচলিত লোকবিশ্বাস।
ছেলেবেলা থেকে আমরা বেশীরভাগ রূপকথায় ভূত সম্বন্ধে জানতে পেরেছি। লোডশেডিংয়ের উপদ্রবও তখন বেশ ছিল। গ্রামাঞ্চলে বাঁশবাগান , ঘুরঘুট্টি অন্ধকার , নাগাড়ে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক কিংবা সাপের ব্যাঙ ধরার কর্কশ আওয়াজ , মাঝেমধ্যে নিশাচর পেঁচার ডাক এসব মিলিয়ে নিজের থেকেই একটা ভৌতিক পরিবেশ তৈরি হত। আসলে আলোতে আমরা যা কিছু দেখতে পাই অন্ধকারে সেসবই চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে যায় বা দেখা যায় না। কোনওটা আবার একেবারে অস্পষ্ট বা এমন এক আকৃতির যা দেখলে অন্ধকারে অস্বাভাবিক মনে হত। তার উপর ঠাম্মা বা দাদু বা বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে প্রথম ভূতের গল্প শোনা। ভয় হওয়াটাই স্বাভাবিক । বলার ভঙ্গির কারণে শিশু বা কিশোর মনে একটা ফ্যান্টাসি জগত তৈরি হয়। সেখানে মৃত কোনো ব্যক্তির কঙ্কাল ভেসে ওঠে মানসচক্ষে বা অবয়ব। এইভাবেই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই কল্পনার জগতের প্রসার লাভ ঘটে। ভূতেদের আধিপত্য বাড়ে।শিশু বা কিশোর মনে ভয় বাড়ে। যেহেতু প্রথমেই জানার জগতে এই বিশ্বাস স্থাপিত হয় যে মানুষ মারা গেলে ভূত হয় সেই কারণে আশেপাশে কেউ চেনা মানুষ মারা গেলেই তাকে দিয়েই ভূতে ভয় পাওয়া শুরু হয়। তারপর সেই ভয় দীর্ঘজীবি ও প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় লোকবিশ্বাসেই।
যা কিছু অস্বাভাবিক মানুষের আগ্রহ সেখানেই বেশি থাকে। ভূতও স্বাভাবিক নয়। তাই ভূতে আগ্রহ বহুল আলোচিত ও প্রচলিত। ক্রমশ রূপকথার গল্প ছেড়েও বাংলা সাহিত্যে অনেক বিষয়ের মধ্যে একটি জনপ্রিয় বিষয় হল ভূত। ভূতের গল্প পড়তে সবাই ভালবাসে। আসলে আমরা ভয় পেলেও অবচেতনে কোথাও ভূতের প্রতি আকর্ষন দুর্নিবার এবং সেই কারণেই সেই ভয়টা পেতেও ভালবাসি সকলে। একটা থ্রিল বা রোমাঞ্চের অপেক্ষায় থাকে সবাই। ভূত বা অলৌকিকতা ছাড়া সেই থ্রিল অসম্পূর্ণ। আমরা স্বচক্ষে ভূত দেখি বা নাই দেখি ভূতের উপস্থিতি আসলে সবাই অনুভব করতে চাই।
সাহিত্যে ভূতেদের নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। তাদের নির্দিষ্ট জগত আছে । আর সেই জগত ছেড়ে লোকালয় বা বিশেষ পরিচিতের নিকট আগমনের নির্দিষ্ট সময়ও আছে। ভূত চতুর্দশী নামে একটা নির্দিষ্ট ক্ষণ তাদের জন্যই রাখা। এছাড়াও অমাবস্যা রাত তাদের বড়ো প্রিয়। রাত যত গভীর ও অন্ধকার হয় তাদের অশরীরী অবস্থান ও উপস্থিতি তত প্রকট হয়।
মেজাজ ও স্বভাব অনুযায়ী এদের গোত্র আলাদা।
প্রথমত পেত্নি–বিশেষত মহিলা ভূত । এরা স্বভাবে ঝগরুটে, ভীষন কলহ ও উপদ্রবপ্রিয়। বিশ্বাস অনুযায়ী এরা বাঁশ বাগানের মাথায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকে। ধরা যাক প্রত্যন্ত অঞ্চলে কেউ রাত দুপুরে নিঝুম অন্ধকারে বাঁশ বাগানের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে সেখানে পেত্নির আচমকা হানা নেহাত আশ্চর্য নয়।
শাকচুন্নির কথা কে না জানে। ভীষন বদমেজাজি । এরা কতবার যে রূপকথায় ধরা পড়েছে। শাকচুন্নি বললেই আমাদের মনে হয় বড়ো বড়ো চুল , তোবড়ানো গাল , ভাঁটার মত জ্বলজ্বলে চোখ। হাসির আওয়াজ খনখনে ও ভয়ঙ্কর। ভাবলেই গায়ের রক্ত হিম হয়ে যায়।
মেছোভূতের গল্প আমরা প্রচুর পড়েছি। মাছপ্রিয় এই ভূত আদাড়ে বাদাড়ে পুকুরে জলাশয়ে ঘাঁটি বাঁধে আর সময় সুযোগ বুঝে মাছরাঙার মত শ্যেনদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মাছের দিকে। তারপর হুশ করে গলাটা অলৌকিক ক্ষমতার দ্বারা শরীরটাকে স্থির রেখে শুধু মাথা ও গলা বাড়িয়ে মাছ ধরে পেটায় নমঃ করে। লোকসমাজে এদের উপদ্রব কম। তবে দীর্ঘদিন মাছ না পেলে অথবা হঠাৎ করে কোনো গৃহস্থের রান্নাঘর থেকে মাছের গন্ধ পেলে অনায়াসে সকলের চোখের সামনে দশপিস মাছ থেকে শাঁ করে পাঁচ পিস হাপিস করে দিতেই পারে। সেক্ষেত্রে ভয় পাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই ।
নিশি ছিল ছোটবেলায় সর্বশ্রেষ্ঠ ভয় পাওয়ার ভূত। রাতে শোবার সময় গুরুজনেরা বারবার সজাগ করে দিতেন যাতে কেউ কাউকে ডাকতে না বলে। এইরকম ধারণা ছিল বা এখনও কিছু কিছু জায়গায় প্রচলিত যে কাউকে ভোরবেলা ডাকতে বললে তার মত গলা করে নিশি ভূত মাঝরাতে ঘুমের ঘোরে ডেকে নিয়ে যায়। ফিরে আসার আর কোনো রাস্তা থাকে না। বাকিটা ইতিহাস। আমরা যারা কমবেশি ভূত সম্বন্ধে জানি তারা নিশি নিয়ে সজাগ ছিলাম সকলেই।
ব্রক্ষদৈত্য জনপ্রিয় কিন্তু নিরুপদ্রব। শান্ত মেজাজের। এরা সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না ।
ডাইনি ও ডাকিনির প্রভাব প্রতিপত্তি সবচেয়ে বেশি। কারোর উপর একবার ভর করলে তার শেষ না দেখে নিস্তার রাখে না।
এছাড়াও মামদোভূত , পেঁচাপেঁচি, গেছোভূত বহু ধরনের ভূতের কথা আমরা লোকমুখে বা বই থেকে জানতে পারি। তারা কিন্তু সকলেই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। তাদের পায়ের পাতা উল্টো , পরিস্থিতি অনুযায়ী শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি নজিরবিহীন। হাত , পা ,গলা , মাথা ক্ষমতাবলে ও ভয় প্রদর্শনের জন্য যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। কখনো হয়তো সুদীর্ঘ পা ঝুলিয়ে বসতে পারে কখনও ঘরের ভিতর থেকে অনায়াসে হাত লম্বা করে গাছের আম বা লেবু পেড়ে আনতে পারে । চোখের সামনে ঘাড়ের উপর মাথাটা লাট্টুর মত বনবন করে ঘুরিয়েও দিতে পারে।
এইসমস্ত প্রকার ছাড়াও আর একপ্রকার ভূত বা অশরীরী প্রেতাত্মার কথা আমরা জানি যাকে প্ল্যানচেটের মাধ্যমে আনতে হয়। বস্তুত অদৃশ্য থেকে নিজের অবস্থান জানান দেয়। কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই এই প্রেতাত্মাকে আহ্বান করা হয় । তার কাছ থেকে অজ্ঞাত কোন বিষয় জানতে চাইলে অনায়াসে কাগজ কলমের মাধ্যমে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেয় অচিরেই।
এখনও গ্রামাঞ্চলে কুসংস্কারাচ্ছন্ন এলাকায় মন্ত্রবলে ভূত তাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। অপদেবতাকে তুষ্ট করতে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রথা ও রীতিনীতি অবলম্বন করা হয়। আবার অনেকে এই ভূতকে বিশ্বাস করেন না বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে । তবে এখনও অনেকে কিন্তু বিশ্বাস করেন যে শরীর নশ্বর হলেও যেহেতু আত্মা অবিনশ্বর সেই কারণে আত্মা ঘুরে বেড়ায় আমাদেরই মধ্যে , তাদের পরিচিতদের মধ্যে । হয়তো মায়া কাটাতে পারে না বলেই ভূত হিসেবে রয়ে যায় বহুকাল।
সভ্যতার আদিকাল থেকে ভূত নিয়ে আলোচনা,তর্ক বিতর্কের শেষ নেই। গবেষণাও হয়েছে প্রচুর।
এমনকি গীতাতেও ভূত সম্বন্ধে আলোচনায় বলা আছে যারা ভক্তিলাভ করেনি তারা বারবার মৃত্যুর পরও ফিরে আসে। সেক্ষেত্রে জড় পৃথিবীতে তারা মৃত্যুর পথে ফিরে আসে।
ভূতেদের কিছু নির্দিষ্ট পোশাকও আছে। যেমন লাল পাড় সাদা শাড়ি বা একেবারে আপাদমস্তক সাদা কাপড়ে মোড়া । অন্ধকার রাতে এ হেন পোষাক পরিহিত যে কাউকে দেখলে ভয় পাওয়ারই কথা। বর্তমানে ভূতের উপদ্রবের কথা শুনতে না পাওয়া গেলেও এদের নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই।
সর্বশেষে একথা বলাই যায় ভূত আছে কি নেই সেই তর্কে না গিয়ে ভূত বিষয়ক প্রবন্ধ , মজার ছড়া , গল্প বিশেষভাবে সমাদৃত। সমস্ত জল্পনা কল্পনার উর্ধ্বে গিয়ে বলা যায় ভূতের ভয় পেয়ে এখনও আবালবৃদ্ধবনিতা শিশুমনে ফিরে যান অচিরে। এখনও রূপকথায় ভূতের গল্প আমাদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। যুগ যুগ ধরে এই কৌতুহল বহাল তবিয়তে বজায় থাকবে আশা করাই যায়।।
Free Website Created & Hosted with Website.com Website Builder